Wednesday, July 29, 2009

অস্ত্র সংবরণ চুক্তি মানছেনা জঙ্গী সংগঠনগুলি-উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক...




কেন্দ্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অস্ত্র সংবরণ চুক্তি মানছেনা উত্তরপূর্বের জঙ্গী সংগঠনগুলি।এ ব্যাপারে কেন্দ্রের উদ্বেগের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।গতকাল লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন যে নাগাল্যান্ডের জঙ্গী সংগঠনগুলি কেন্দ্রের সঙ্গে থাকা ‘সিজ ফায়ার’ চুক্তি যখন তখন লঙ্ঘন করছে।

এছাড়াও সরকারী সূত্রে জানা গিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে আশ্রয় নিয়ে এই জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে এদেশে ফের ঢুকছে।প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে জঙ্গীরা অস্ত্রও সংগ্রহ করছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মাকেন জানান যে নকশাল প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কেন্দ্র ৭৮০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এছাড়াও চিদাম্বরম জানান, নাগা সংগঠনসহ উত্তরপূর্বের জঙ্গী গোষ্ঠীগুলি ‘আশ্রয়’ হিসাবে প্রতিবেশী দেশগুলিকে ব্যবহার না করতে পারে সেজন্য মায়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।উত্তরপূর্বের জঙ্গী গোষ্ঠীগুলি যাতে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার না করতে পারে সে ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে কথা হয়েছে।

আমেরিকার ভোট ময়দানে এবার ভারতীয় মহিলা......




ববি জিন্দালের পর নিক্কি রনধাওয়া হ্যালে। আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারোলিনা প্রদেশের গভর্ণর পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন নিক্কি। জাতিতে শিখ, ৩৭ বছরের এই ভারতীয় মহিলা নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।
২০১০ সালের নির্বাচনের জন্য রিপাব্লিকান পার্টীর হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে চলেছেন তিনি।যদি নির্বাচিত হন তাহলে তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে আমেরিকার প্রশাসনিক অন্দরমহলে প্রবেশ করবেন। আর তিনিই হবেন আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা গভর্ণর।
উল্লেখ্য অমৃতসরের এই মেয়ে জেতার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী।এবং সে ক্যারোলিনা প্রদেশে নির্বাচনী প্রচার নিয়েই এখন ব্যস্ত।তিনি বলেন, “আমি কোন কাজ অসমাপ্ত রাখতে চাইনা, আমি এই ভোটযুদ্ধে শুধু জেতার জন্যই নেমেছি।”

পাকিস্থানকে জবাব চিদাম্বরমের......




হাফিজ মহঃ সৈয়দকে গ্রেপ্তার করতে পারবেনা বলে পাকিস্থান সরকার ঘোষনা করার পর আজ মুখ খুললেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
তিনি বলেন পাকিস্থান ২৬/১১ নিয়ে এতদিন যা যা তথ্য চেয়েছে ভারত তাই-ই তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তদন্ত শুরু করার জন্য উপযুক্ত সময় পাকিস্থানকে তারা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবুও তারা ঠিকমতো তদন্ত শুরু করতে পারলেননা বলে পালটা অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য গতকাল পাক মন্ত্রী রেহমান মালিক ভারতকে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে বলেছিল যাতে তারা উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়াও কিছু ভারতীয়ও মুম্বাই কান্ডে জড়িত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন।
কিন্তু এর পরেও ভারতের পার্লামেন্টে আক্রমণের সাথে জড়িত ও লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দকে গ্রেপ্তার না করায় স্বভাবতই নারাজ ভারত সরকার।
২৬/১১ এর ঘটনার সাথে সৈয়দ যে জড়িত তার উপযুক্ত প্রমাণ সেদেশের তদন্তকারী এজেন্সীর কাছে রয়েছে বলে ইতিমধ্যেই দাবী করেছে কিছু পাক সংবাদমাধ্যম।
তাই পাকিস্থানকে কড়া জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম। তিনি বলেন যে প্রশ্নের উপর প্রশ্ন আর ভারত কে দোষারোপ না করে পাকিস্থান তদন্তের কাজটাই করুক।

চন্দ্রায়ন-১ এর ক্যামেরায় ধরা পড়ল চাঁদের ছায়ার স্পষ্ট ছবি......




গত ২২শে জুলাই সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীপৃষ্ঠে চাঁদের ছায়ার দৃশ্য চন্দ্রায়ন-১ এর ক্যামেরায় ধরা রয়েছে বলে দাবী জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান স্পেস এজেন্সির অধিকর্তারা।এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে টেরেইন ম্যাপিং নামক এক বিশেষ ধরনের ক্যামেরা।
পৃথিবীপৃষ্ঠের উপর চাঁদের ছায়ার গতিবিধি এর মাধ্যমে তাদের নজরে এসেছে। উত্তর পূর্ব চায়না থেকে অষ্ট্রেলিয়ার উত্তর অংশে চাঁদের ছায়া কিভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাও ক্যামেরা বন্দী হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরোর প্রধান এস সতীশ।
গ্রহণের ছবিগুলি ঠিকমতো পাঠানোয় ইসরোর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হতে পেরেছে যে চন্দ্রায়ন প্রকল্প ঠিক ভাবেই কাজ করে চলেছে।কিছুদিন পূর্বে এই প্রকল্পে সমস্যা দেখা দিলেও পৃথিবীর উপর চাঁদের ছবি ঠিকমতো তোলায় এর অধিকর্তারা কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত। উল্লেখ্য ইসরোর বিজ্ঞানীরা অ্যান্টেনা পয়েন্টিং মেকানিসমের দ্বারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছিল।

Tuesday, July 28, 2009

সৌরশক্তির উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী ভারত.....




ভারত সৌর শক্তির পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্য আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই স্থির করতে চলেছে। সৌর শক্তি উৎপাদনের পরিমাণ শূণ্য গিগা ওয়াট থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ২০ গিগা ওয়াটে নিয়ে যাওয়া হবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল থেকে হোটেল, গ্রাম থেকে শহর-ভারতের প্রায় প্রতিটি স্থানেই সৌর চালিত শক্তির সাহায্যে জ্বলবে আলো। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন যে ভারতের এই চির অবহেলিত বিদ্যুৎ ক্ষেত্রটিতে এই লক্ষ্য পূরণ করার মতো উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে।এছাড়াও এতে যথেষ্ট পরিমাণে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এখনও ভারতের ৫৬ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছায়না। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ চায়নার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ভারতের থেকে পাঁচগুন বেশী।তাই বিদ্যুৎ এর ঘাটতি মেটাতে এই লক্ষ্য পূরণ হওয়া আবশ্যিক।
অপরদিকে ভারতীয় অর্থনীতি ৮-৯ শতাংশ হারে বেড়ে চলেছে। ফলে এই দেশ প্রায় ৪ শতাংশ গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমণ করে। তাই বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে সৌরশক্তির বেশী পরিমাণে উৎপাদন আবশ্যিক।
এছাড়াও ভারতের ‘ন্যাশনাল সোলার মিশন’-এ বলা হয়েছে যে প্রতিটি রাজ্যকে কিছু পরিমাণ সৌরশক্তি কিনে রাখতে হবে। উল্লেখ্য এখন সারা পৃথিবীতেই ১৪ গিগাওয়াট সৌর শক্তি উৎপাদিত হয়। আশা করা যাচ্ছে যে ভারতের এই পদক্ষেপ বিভিন্ন কোম্পানীর পক্ষেও লাভদায়ক হবে।

সৈয়দের বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ নেই-মালিক...




২৬/১১ এর মুম্বাই হামলার সাথে তার জড়িত থাকার কোন প্রমাণ নেই। তাই জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ মহঃ সৈয়দকে এখন গ্রেপ্তার করছেনা বলে জানালো পাক মন্ত্রী রেহমান মালিক।
হাফিজ সৈয়দের বিরুদ্ধে তাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই বলে এক বেসরকারী চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ দাবী করে চলেছি। প্রমাণ পেলে আমরা অবশ্যই উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব।কিন্তু শুধুমাত্র বিব্রত করার জন্য আমরা এ দেশের কোন নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে পারিনা।”
এছাড়াও মুম্বাই কান্ডে ভারতীয়রাও জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। আক্রমণকারীরা কিভাবে জলপথে প্রবেশ করেছিল তা সম্পর্কে উপযুক্ত তথ্য ভারত সরকারকে দিতে হবে বলেও তিনি দাবী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য এ মাসের শুরুতে সৈয়দকে ছেড়ে দেওয়ার সুপ্রীম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানালেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তারা তা ফিরিয়ে নেয়।
এছাড়াও বালুচিস্থানের ঘটনায় ভারতের জড়িত থাকা নিয়ে তিনি জানান যে উপযুক্ত সময়ে প্রমাণগুলি তারা ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে প্রকাশ করবেন।

বালুচিস্থানের ঘটনায় ভারতের হাত নেই......




ভারতকে চাপে রাখতে কয়েকদিন পূর্বে পাকিস্থান সরকার অভিযোগ করেছিল যে বালুচিস্থানে দাঙ্গাকারীদের সাহায্য করছে ভারত।কিন্তু তা সত্যি নয় বলে জানালেন বালুচিস্থানেরই জাতীয় স্তরের এক নেতা।
সেখানকার জাতীয় স্তরের নেতা সুলেমান খান বলেন যে বালুচিস্থানের ব্যাপারে ভারত কোন হস্তক্ষেপ করেনি। পাকিস্থান সারা বিশ্বকে তাই দেখাতে চেয়েছে এবং সেটা তাদের কারসাজি বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন “যদি ভারতের সাহায্য পেতাম তাহলে আমদের অবস্থা এরকম থাকতোনা।”
বালুচিস্থানের নেতাদের বারবার আবেদন সত্বেও ভারত হস্তক্ষেপ করা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও তিনি বলেন যে পাকিস্থানী অবরোধের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ভারতের সমর্থন তারা বারবার চেয়েও পায়নি।
উল্লেখ্য ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন বৈদেশিক এত সমস্যা থাকতে ভারত কেন বালুচিস্থানের সমস্যায় হস্তক্ষেপ করবে। পাকিস্থান যে শুধুমাত্র ভারতকে চাপে রাখতেই এই অভিযোগ করেছিল তা বলাইবাহুল্য।

যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ-পদত্যাগ করলেন ওমর আবদুল্লা......




জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ওমর আবদুল্লা। তার বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার ফলেই এই সিদ্ধান্ত।আর এই অভিযোগ করেছেন পি ডি পি নেতা ও প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মুজাফ্‌ফর বেগ।উল্লেখ্য গত বছর শ্রীনগর যৌন কেলেঙ্কারির সাথে তিনি জড়িত বলে তার অভিযোগ।
ওমর আবদুল্লার মতে তিনি নিরাপরাধ।আর যতদিন তা প্রমাণ করতে পারছেননা ততদিন এই পদে থাকবেননা বলে তিনি জানিয়েছেন।
দলীয় মন্ত্রী, বিধায়কদের চমকে দিয়ে আজ বিধানসভায় এই ঘোষনা করেন তিনি। দলীয় বিধায়করা তাকে ইস্তফা দেওয়ার থেকে সাময়িকভাবে বাধা দিলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।উল্লেখ্য মুজাফ্‌ফর বেগ দাবী জানিয়েছেন এই কেলেঙ্কারিতে যুক্ত সবার তালিকা তার কাছে আছে। আর ঐ তালিকায় ওমর আবদুল্লার নাম ১০২ নম্বরে।

লালগড়ে গেলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী......




রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও আজ লালগড়ে গেলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায় ও শিশির অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিরাপত্তার কারণে রাজ্য সরকার এবারও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের লালগড় যেতে নিষেধ করেছিল।কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চাপে মন্ত্রীদের নিরাপত্তা দিতে শেষপর্যন্ত রাজি হল রাজ্য।
রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর চিঠির ভিত্তিতেই এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের লালগড় সফরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার পরামর্শ দেন।পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে।”
উল্লেখ্য যৌথ অভিযানের শুরুতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের এই দুই মন্ত্রীকে লালগড়ে ঢুকতে দেয়নি।তাঁরা সেই সময় ত্রাণ নিয়ে লালগড়ে ঢুকতে চেয়েছিলেন।এবারও জেলা প্রশাসন তাদের সফর নিয়ে আপত্তি তোলে।নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে রাজি হলেও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব অর্ধেন্দু সেন বলেন, “লালগড় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সফরের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা তাঁদের নিরাপত্তার কারণেই চাইছিনা যে তারা লালগড়ে যান।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যে রাজ্য সরকারের তা তিনি মেনে নিয়েছেন।
দিল্লির চাপেই যে তারা শেষপর্যন্ত তাদের লালগড়ে যেতে দিতে রাজি হয়েছেন সে কথা অবশ্য স্বরাষ্ট্রসচিব স্বীকার করেননি।

Monday, July 27, 2009

যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় ধৃত আরকানসাসের এক পাদ্রী......




ঈশ্বরের আদেশ, তাই যৌনসঙ্গিনী হতে হয়েছে টনি আলামো নামক জনৈক এক পাদ্রীর। মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তাদের শরীরের দখল নিয়েছে তথাকথিত ভগবানের দূত এই পাদ্রী।শেষ অবধি তাকে ধরা দিতেই হল আইনের কাছে।
১৭ থেকে ৩৩ বছর ব্য়সী এই পাঁচ মহিলা তাদের জবানবন্দিতে জানিয়েছেন যে তারা নাবালিকা থাকাকালীনই তিনি তাদের বিবাহ করেন।এমনকি তার আদেশ ছাড়া খাদ্য থেকে বস্ত্র কিছুই পেতেননা তারা।কিন্তু আলামোর কথায়, তিনি আরেক জন ঈশ্বরের দূত যাকে গোসপেলের জন্য জেলে যেতে হল।
তার এই যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে জানান জুরি সদস্যরা।এছাড়াও তাদের সিদ্ধান্তে খুশি বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য অপরাধের জগতে তার এই প্রথম পা রাখা নয়। এর পূর্বেও ১৯৯০ সালে কর না দেওয়ার কারনে তাকে চার বছরের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল। আরকানসাসের এই ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সারা বিশ্ব জুড়েই তথাকথিত এই ভগবানের দূতদের কেলেঙ্কারির ঘটনা যে দিন দিন বেড়েই চলেছে তা বলাইবাহুল্য।

সমুদ্রে ভাসলো ভারতের প্রথম নিউক্লিয়ার সাবমেরিন......




ভারতের প্রথম নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ‘আই এন এস আরিহান্ত’ গত রবিবার ভাসলো সমুদ্রে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনির উপস্থিতিতে সমুদ্রে ভাসলো ১১২ মিটার দীর্ঘ এই সাবমেরিন।
সরকারের বার্তা, কাউকে চ্যালেঞ্জ জানানো বা যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি এর উদ্দেশ্য নয়।দেশের সুরক্ষার জন্য এবং প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এরকম প্রকল্প খুবই জরুরী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সমুদ্রের গভীর থেকে মিসাইল ছুড়তে পারে এই সাবমেরিনটি। ৬০০০ টোনের এই সাবমেরিনটি ৮৫ মেগাওয়াটের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বহন করতে পারে।এর গতিবেগ ২২-২৮ কিলোমিটার।এছাড়াও ৯৫ জন ক্রিউ সহ ভাসতে পারে এটি।টর্পেডো এবং ব্যালেস্টিক মিসাইল বহন করারও ক্ষমতাও রাখে এটি।
উল্লেক্ষ্য ৩০,০০০ কোটি টাকার এই প্রোজেক্টটি ১৯৮০ সালের।এছাড়াও মস্কো থেকে দুটি আকুলা ক্লাস নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ১০ বছরের জন্য লিজ নিতে চলেছে সরকার।
আই এন এস আরিহান্তের সমুদ্রে ভাসার সাথে সাথেই আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং চায়নার সাথে ভারত একাসনে বসে পড়ল। কিন্তু তবুও প্রশ্ন রয়েই যায়।কারণ ভারত এখনও ৭৫০ কিলোমিটার সমুদ্র-স্থল নিউক্লিয়ার মিসাইল পেতে লড়াই করছে। অপরদিকে ৫০০০ কিমি দূরত্ব যেতে পারে এমন মিসাইল চায়নার কাছে আছে।তাই প্রযুক্তির দিক দিয়ে ভারত কত পিছিয়ে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কার্বন-ডাই-অক্সাইড কে কাজে লাগিয়ে বায়োফুয়েল......





সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে নতুন তরল জ্বালানী তৈরির কথা ঘোষনা করল জুল বায়োটেকনোলজিস।
বাতাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে নতুন এই বায়োফুয়েল তৈরি করছেন তারা।কোন বায়োমাসের সাহায্য ছাড়াই সালোক- সংশ্লেষের মধ্য দিয়ে সরাসরি যে বাণিজ্যিকভাবে কোন রাসায়নিক তৈরি করা যায় তা দেখিয়ে দিলেন তারা।প্রস্তুতকারকদের দাবী নতুন পদ্ধতিতে তৈরি এই বায়োফুয়েলের দামও অনেক কম হবে।এছাড়াও এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভবিষ্যতে শক্তির প্রাচুর্যতা সহজেই বাড়ানো যাবে বলে তাদের আশা। প্রতিবছর ২০,০০০ গ্যালন জ্বালানী উৎপাদন করার দাবীও তারা জানিয়েছেন। সম্প্রতি এই কোম্পানী নিউ মেক্সিকোতে একটি প্রোটোটাইপ সোলার কনভার্টার নিয়ে পরীক্ষা করতে চলেছে। এবং ২০১০ সালের পরে শিল্পবান্ধব হিসাবে এই প্রকল্পকে গড়ে তুলতে তারা বদ্ধপরিকর।

Friday, July 24, 2009

কান্ধামালে দাঙ্গা কেন?......




কান্ধামালের নৃশংস ঘটনার দায় সবাই চাপিয়েছিল হিন্দুদের উপর।স্বামী লক্ষ্মনানন্দ সরস্বতীর মৃত্যুর বদলা নিতেই হিন্দুরা এই ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে সবাই দাবি করেছিল।
কিন্তু শরৎচন্দ্র মহাপাত্র কমিশনের মধ্যবর্তীকালীন রিপোর্ট অন্য কথাই বলছে।কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী কান্ধা ও পানা নামক দুটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধই এর কারণ।এছাড়াও জোর করে ধর্মান্তরিত করাও কান্ধামালের ঘটনার পেছনে দায়ী। রিপোর্টে জানান হয় যে ওড়িষ্যায় ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট থাকা সত্বেও বে-আইনিভাবে ধর্মান্তকরণ চলতেই থাকে।
সেখানকার সামাজিক প্রেক্ষাপটের ছবিটা বিচার করলে সহজেই তা বোঝা যাবে বলে দাবী রিপোর্টটির।সেখানে মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৫২% কান্ধা ও ১৯% পানা।তাই সেখানকার চার্চগুলি পানাদের নানাভাবে খ্রীষ্ট ধর্মে রুপান্তরিত করতে থাকে।উল্লেখ্য ১৯৫১ সালে যেখানে ধর্মান্তরিত করা হয় ১৯,১২৮ জনকে সেখানে২০০১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১,১৭,৯৫০ জনে।
তারপর পানারা অনৈতিক ভাবে কান্ধাদের জমি অধিগ্রহন করতে থাকে।অনৈতিক ভাবে জমি অধিগ্রহন ও ধর্মান্তকরণের পাশাপাশি এস সি, এস টি না হয়েও অনেকে জাল শংসাপত্র বানিয়ে নেয়। আর পদস্ত আধিকারিকরা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা এতে দিনের পর দিন মদত দিয়ে আসছে।
পানা গোষ্ঠীভুক্তরা খ্রীষ্টান হওয়ার পর তাদের এস সি, এস টির স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যায়। তাই তারা মিশনারীদের সাহায্যে এই জাল শংসাপত্র বানাতে শুরু করে। আর তাতেই মতবিরোধ দেখা যায় এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে।
বিচারপতি মহাপাত্রের মতে রিপোর্ট সম্পূর্ণ হতে আরও দুই বছর বাকি কিন্তু আশা করি এই মধ্যবর্তীকালীন রিপোর্ট সরকারকে তদন্তে অনেকটাই সাহায্য করবে।

জমি অধিগ্রহন নিয়ে আবার সরব মমতা‌......




জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনের বিরোধীতায় সরব হলেন রেল মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী৷ মন্ত্রীসভার বৈঠকে শিল্পের জমি অধিগ্রহণ আইনের বিরোধীতা করলেন রেল মন্ত্রী। আইনে বলা হয়েছে শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাঙ্ক করা হবে৷ তৃনমূল নেত্রী ল্যান্ড ব্যাঙ্কের বিরোধী না হলেও কিন্তু জমি অধিগ্রহণ আইন যে ভাবে প্রণয়ন করার কথা বৈঠকে বলা হয়েছে তার বিরোধী রেল মন্ত্রী।


আইনে বলা হয়েছে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহন ৭৫ শতাংশ করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। বাকি ২৫ শতাংশ সরকার করবে। এখানে আপত্তি জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। রেল মন্ত্রী বলেন এভাবে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান'কে জমি অধিগ্রহণের অনুমতি দিলে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির মালিক সঠিক মূল্য পাবে না। আসলে জমি ও জমি অধিগ্রহনের ব্যাপারে মমতা ব্যানার্জী স্পর্শকাতর৷ জমি নিয়ে আন্দোলন করে রাজ্য রাজনীতিতে তিনি আলোর দিশা পেয়েছেন৷ এমন কি জমি বাঁচাও আন্দোলনের নেত্রী হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা পেযেছেন। স্বাভাবিক ভাবে জমি নিয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত খুব ভাবনা চিন্তা করে নিতে চাইছেন তিনি।

মার্কিন-জর্জিয়া সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে......



মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মস্কো সফরের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জর্জিয়া সফরে এসে সেদেশের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন৷

রাশিয়া ও জর্জিয়ার মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার আলোকে বাইডেনের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷
ওবামা প্রশাসনের কোনো শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে জো বাইডেন জর্জিয়া সফর করলেন৷ শীতল যুদ্ধের অবসানের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি একে একে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হয়ে চলেছে৷ অস্বস্তি সত্ত্বেও রাশিয়া তা মেনে নিয়েছে৷ কিন্তু ইউক্রেন ও জর্জিয়ার প্রশ্নে মস্কো অত্যন্ত স্পর্শকাতর৷ কৌশলগত কারণে রাশিয়া এই দুই দেশের ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির ঘোরতর বিরোধী৷ তার উপর জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল সাকাশভিলির প্রতি রুশ নেতৃত্বের ব্যক্তিগত ক্রোধ রয়েছে৷ গত বছর জর্জিয়ার দুই বিচ্ছিন্নতাকামী প্রদেশ – আবখাজিয়া ও দক্ষিণ ওসেটিয়ার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে জোরালো সামরিক সংঘর্ষ ঘটেছে এবং একমাত্র দেশ হিসেবে রাশিয়া ঐ দুই প্রদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ রাশিয়া কোনোমতে চায় না, মার্কিন সহায়তায় জর্জিয়ার সামরিক শক্তি আবার বেড়ে যাক৷ যুদ্ধের এক বছর পূর্তির ঠিক আগে বাইডেনের জর্জিয়া সফর তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে৷
বাইডেন জর্জিয়ার প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন ঠিকই, কিন্তু বুশের কার্যকালে সাকাশভিলি যে প্রায় অন্ধ সমর্থন পেতে অভ্যস্ত ছিলেন, বাইডেনের কাছ থেকে তিনি সেই ধরণের উষ্ণতা পান নি৷ অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বুশ প্রশাসনের অন্ধ সমর্থনের ফায়দা তুলেই জর্জিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষের পথে এগোনোর দুঃসাহস দেখিয়েছিল৷ বিচ্ছিন্ন দুই প্রদেশ ফিরে পেতে ভবিষ্যতে এমন কোনো সামরিক অভিযান সম্পর্কে জর্জিয়াকে সাবধানও করে দিয়েছেন বাইডেন৷ জর্জিয়ার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সাকাশভিলি সরকার যেভাবে সংবাদ মাধ্যমের অধিকার খর্ব করে রেখেছে, তারও সমালোচনা করেছেন বাইডেন৷ প্রশাসনের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সকল শ্রেণীর অংশগ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন তিনি৷ সংসদে দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন নিরাপদ, মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও আবার ঐক্যবদ্ধ এক জর্জিয়ার প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা বলেছেন৷

পলাশিতে সরকারী লিজের দেওয়া জমিকে বেআইনী ভাবে বেঁচে দেওয়ার চক্রান্ত......স্বপন হালদার, নাগরিক সংবাদদাতা


নদীয়ার পলাশির রামনগর সুগার মিলটি ইংরেজ আমলের। ঐ মিলের অধীনে আছে প্রায় ৮০৪৬ একর জমি।কয়েক বছর আগে রাজ্য সরকার ৬,১৭৯.৭ একর জমি অধিগ্রহন করে।এর মধ্যে আখ চাষের জন্য বরাদ্দ করা হয় ২,২৮০ একর জমি। এছাড়া ফলের বাগান র‌য়েছে ৩৯৫ একর। জলাশয়ের জন্য ঠিক হয় বেশ কিছু জমি।
৩,৮৯৫ একর জমিতে তৈরি হয়েছে সুগার মিল। মিলের অধীনে যে পরিমাণ জমি আছে তার বেশীরভাগই বে-আইনী ভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লিজ দেওয়া হচ্ছে। ঐ সমস্ত জমিতে ধান, পাট এমনকি জলাশয়ে মাছ চাষও হচ্ছে।লিজ নিয়েও চলছে ফাটকাবাজি।
অতীতে সুগার মিলে লাভজনক ব্যবসা হত।এখন নানা কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। আখচাষের জন্য আখচাষীদের স্বার্থও দেখা উচিত।একই সাথে মিলটির আধুনিকীকরণও জরুরী। অতীতে বিভিন্ন সময়ে মিলের মালিকানার বদল হলেও জমির চরিত্র ও মিলের অস্তিত্ব একই আছে।জমি নিয়ে ফাটকায় লাভ হচ্ছে কিছু অসাধুচক্রের।অথচ সবকিছু জেনেও সরকার এখানে নিশ্চুপ-উদাসীন।

Thursday, July 23, 2009

ভারতকে কোণঠাসা করতে চাইছে পাকিস্থান......




২৬/১১ এর জঙ্গী হানার পর ভারত নানাভাবে কোণঠাসা করেছিল পাকিস্থানকে। তারপরে পাকিস্থান বাধ্য হয়েছিল জঙ্গী সংগঠনগুলি নিয়ে নানা তথ্য ভারতের হাতে তুলে দিতে।
এবার ন্যাম সামিটে পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে এক ফাইল তুলে দিয়েছেন বলে দাবী করেছেন পাকিস্থান সংবাদমাধ্যম। কিন্তু ভারত সরকারের তরফে এটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ডন পত্রিকার বাকির সজ্জদ জানান যে ইউসুফ রাজা গিলানি বালুচিস্থানের ঘটনা এবং পাকিস্থানে নানা জঙ্গী কার্যকলাপের সাথে ভারত যে জড়িত তার প্রমাণসহ নানা তথ্যাদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে যে এই তথ্যগুলি সম্পর্কে পাক সরকার ভারতকে অবহিত করেছে।
এর মাধ্যমে পাক সরকার নানা অভিযোগ তুলেছে ভারতের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ নম্বর ১--- শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের উপর আক্রমন থেকে শুরু করে মানাবান পুলিশ অ্যাকাডেমী তে বোমা বিস্ফোরনের পেছনে ভারতের হাত ছিল। অভিযোগ ২--- ভারতীয় অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও হয়েছিল এই আক্রমণগুলিতে।
অভিযোগ ৩---বালুচিস্থানের ঘটনার পেছনেও ভারতের হাত।
অভিযোগ ৪---কান্দাহারে জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালায় ভারত।
ভারতের উপর পালটা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্থান তা বলাইবাহুল্য।

হাসিনার উদ্যোগে কি সাড়া দেবে মমতা......




রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।দুই দেশের মধ্যে বন্ধ রেলপথ ফের চালু করতে চাইছেন তিনি।বাংলাদেশে শিল্পায়নের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতেই তার এই উদ্যোগ।
উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন কোলকাতা ও খুলনাকে রেলসংযোগ সূত্রে বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তিকালে তা বন্ধ হয়ে যায়।সেই রেল যোগাযোগকে ফিরিয়ে আনতেই মমতার দ্বারস্থ তিনি।
ইতিমধ্যেই তিনি মমতাকে এ-বিষয়ে লিখেছেন এবং তাতে সাড়াও মিলেছে।ভারতীয় বণিকসভা ‘ফিকি’-র এক প্রতিনিধিদলের সাথে গতকাল ঢাকায় বৈঠকও করেন তিনি।সেখানেও বন্ধ রেলপথ চালু করার প্রস্তাব দেন তিনি।
হাসিনা চাইছেন, ভারত থেকেই শিল্পোদ্যোগীরা এসে বিনিয়োগ করুন সেদেশে। সে কারণেই সড়ক সংযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগকেও প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি। মূলত পণ্যবাহী রেল চালানোর লক্ষ্য নিয়েই কোলকাতা ও খুলনার মধ্যে লাইন চালু করেছিলেন মমতা।শিল্পায়নের জন্য যা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে হাসিনার কাছে।

শ্রমিক শোষনের নতুন দৃষ্টান্ত চীন......




চাহিদা বাড়ছে-তাই বাড়াতে হবে উৎপাদন। উৎপাদন বাড়াতেই কাজের চাপ বাড়ছে শ্রমিকদের-আর ফলাফল আত্মহত্যা। এরকম ঘটনার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে চায়নায়।
কয়েকদিন পূর্বে অ্যাপেল কোম্পানিতে কর্মরত এক চীনা শ্রমিকের মৃত্যুর পরই এই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। সান নামক অ্যাপেলের এই কর্মী ১৬ আইফোন প্রোটোটাইপের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে এক কর্মী কিছুদিনের জন্য নিখোঁজ হয়ে গেলে চাপ বারে তার উপর।মারধোর থেকে শুরু করে তাকে এক ঘরে করে দেওয়া কিছুই বাকি রাখেননি কোম্পানীর মালিকেরা।
সেখানে ব্যক্তিস্বার্থের কোন মূল্য নেই। জীবনের থেকে মানুষের ব্যবহার্য্য জিনিসগুলি বেশী দামী হয়ে উঠেছে সেখানে।
উল্লেক্ষ্য এদেশের তথাকথিত কমিউনিস্ট শাসিত পশ্চিমবঙ্গে কোম্পানীগুলি প্রভিডেন্ট ফান্ডে ঠিকমতো টাকা জমা দেয় না। এমনকি বেশীরভাগ সময়ে শ্রমিকরাও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পায়না। এই নিয়ে লোকসভায় বারবার সরব হয়েছেন বামেদেরই এক সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্ত। কিন্তু নীরব সরকার।এবারই প্রথম নয় এর পূর্বেও ফক্সকন কোম্পানীর বিরুদ্ধে শ্রমিক শোষনের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তা চেপে যায়। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে কোম্পানীগুলির এই অনৈতিক কাজকেই আশকারা দিয়ে যাচ্ছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার।

Wednesday, July 22, 2009

মহারাষ্ট্রে বিজেপির জোটসঙ্গী শিবসেনা......




শিবসেনাকে সাথে নিয়েই মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি, জানালেন দলের রাজ্য সভাপতি নীতিন গাদকারী।

ভোটের পূর্বে রাজ ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র নব নির্মান সেনার সঙ্গেও যে জোট গড়ার পরিকল্পনা যে ছিল সাংবাদিক সন্মেলনে তাও জানান তিনি।
মহারাষ্ট্র নবনির্মান সেনাকে উৎসাহিত করার জন্য ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে আক্রমন করতেও তিনি ছাড়েননি। এম এন এস কে সমর্থন করে সাধারণ মানুষ অযথা তাদের ভোট নষ্ট করবেননা বলেও তার আশা।
তবে বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের ব্যবহার নিয়েও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তিনি। তাই তিনি এর পাশাপাশি ব্যালট পেপারের ব্যবহার করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
লোকসভা ভোটে মহারাষ্ট্রে বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে নরেন্দ্র মোদীর প্রচারের কথাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ......











ওয়েস্টইন্ডিজের লজ্জা আর বাংলাদেশের গর্ব। টেস্টে অভিষেকের মাত্র ৯ বছরের মাথায় বিদেশের মাটিতে জয় পেল বাংলাদেশ। আর স্বপ্নের ওয়েস্টইন্ডিজ দলের সদস্য সোবার্স, রিচার্ডসরা শোকে ডুবে গেলেন।
তবে বিদেশে প্রথম হোয়াইট ওয়াশ করানোর দিক দিয়ে বাংলাদেশ পেছনে ফেলে দিয়েছে বাকি টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলিকে।
তাই বাংলাদেশে এখন আনন্দের উচ্ছ্বাস। সম্বর্ধনার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দলের প্রতিটি খেলোয়াড়।ইতিমধ্যে তাদের জন্য ঘোষিত হয়েছে দেড় লক্ষ টাকার বোনাস।
কি বলছেন জয়ী দলের সদস্যরা-
সাকিব আল হাসানঃ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি বিরাট সাফল্য।নিজের কথা যদি বলি এত কিছু পাব চিন্তাও করিনি।
মহঃআশরাফুলঃ দেশ ছেড়ে আসার সময় চিন্তাও করি নি।সাকিব যা করেছে তার কোন তুলনা হয়না।ব্যাটিং-বোলিং-ক্যাপ্টেন এমনই হওয়া উচিত।
বিদেশে প্রথম টেস্ট সিরিজ জিততে ভারতের লেগেছিল ৭৩ বছর। এমনকি অষ্ট্রেলিয়ার লেগেছিল ১২৩ বছর।
পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে শক্তিধর ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ হিসাবে উঠে আসছে বাংলাদেশ।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর আমেরিকায়......




ঘটনাস্থল শিকাগোর একটি হোটেল। বাইরে রোষে ফেটে পড়ছিল হাজারো আমেরিকান। কি চলছিল ভেতরে? চলছিল হিজব-উত-তাহির নামক একটি মুসলিম সংগঠনের সন্মেলন। সন্মেলনের আলোচ্য বিষয় –সাম্রাজ্যবাদের পতন এবং ইসলামের উত্থান। আর এই আলোচ্য বিষয়ই বিপাকে ফেলেছে এই সংগঠনটিকে।
তাদের প্রতি অভিযোগ উঠেছে যে ৯/১১ এর মাস্টারমাইন্ড খালিদ শেখ মহঃ এবং আলকায়দার একসময়কার হত্তা-কর্তা মুসাব আলি জারকায়ীও তাদের সাথে যুক্ত।
সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সাথে যুক্ত নয় বলে ইতিমধ্যেই সাফাই গাইতে শুরু করেছেন তারা। উল্লেখ্য সরকারী নঁথিতেও এটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে উল্লেখ করা নেই। কিন্তু সন্মেলনে সাম্রাজ্যবাদকে একহাত নেওয়ায় সন্দেহ দানা বেঁধেছে তাদের মনে।
হোটেলের বাইরে বিদ্রোহী কণ্ঠে ধ্বণিত হচ্ছিল-এটি আমেরিকা।যদি কেউ পছন্দ না করে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।
তারা জিহাদী তৈরি করেনা বা জিহাদের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই, এই দাবী করেছেন মুসলিম সংগঠনটির নেতা মলকাভী।তারা যতই সাফাই গান না কেন তাদের নির্দিষ্ট করা লক্ষ্য কিন্তু অন্য কথা বলছে। একদিকে বলছেন তারা জিহাদীদের শিক্ষা দেননা কিন্তু অপরদিকে বলছেন যে তাদের লক্ষ্য খলিফাদের জন্য এক পৃথক ইসলামিক রাষ্ট্র তৈরি করা।
সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞদের মতে এটি খুবই সাংঘাতিক একটি সংগঠন। ফিউচার অব টেরোরিজম প্রোজেক্ট অ্যাট দ্য ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসির ডিরেক্টর ওয়ালিদ ফেয়ার্সের মতে এরা ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলে মেয়েদের মনে জেহাদী ভাবনা ঢূকিয়ে দেয় যা খুব সাংঘাতিক। আর এই দিক দিয়েই তারা আলকায়দার থেকে আলাদা।
তিনি এও বলেন যে যদি আলকায়দা জঙ্গীদের হাইস্কুল হয় তবে এটি প্রাইমারী স্কুল।জানা গেছে ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোম্বিং এছাড়াও নাইট ক্লাবে হামলা সব কিছুর পেছনে দায়ী যে খালিদ শেখ মহঃ তিনিও এর সাথে যুক্ত।
এছাড়াও ফেসবুক এবং মাই স্পেস নামক স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে তারা তাদের ভাবনা ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছে বলছে জানা গিয়েছে।
কিন্তু আকসা স্কুলের মত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে হিজব-উত-তাহির পরিচালিত সন্মেলনটি আসলে একটি বাজারের মতো যেখানে দোকানীরা নানা জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন।
কিন্তু প্রাক্তন সদস্য ইসতিয়াক হোসেন স্বীকার করেছেন যে এটি একটি চরমপন্থী সংগঠন হিসাবে নিজেদের তৈরি করছে।
আমেরিকার বুকে বসে এমন ঘটনা আমেরিকা যে বরদাস্ত করবেনা তা বলাইবাহুল্য।

মহামেডানের হয়ে সৌরভ......




সি এ বির সাধারন সভায় সৌরভ। সৌজন্যে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ময়দানের লোক নন এমন অনেকেই এ খবর পড়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছেন, ব্যাপারটা কি? ভূ-কৈলাসের হয়ে কার্যকরী সমিতির সভায় সৌরভের আসার খবরটা কি তাহলে ভুল? দুটোই ঠিক।বিতর্ক এড়াতে মাত্র দুটোই কথা ‘টেকনিক্যাল কারণ’।সেপেটম্বরে বিসিসিআই এর বার্ষিক সাধারণ সভায় যাওয়ার পথ তৈরির জন্য ভূকৈলাসের দ্বারস্থ হওয়া।
কার্যকরী সমিতির সভায় সভাপতিকে যিনি প্রতিটি সভায় আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে কোণঠাসা করে রাখেন সেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুলতান আহমেদ বার্ষিক সাধারণ সভায় সৌরভকে পাঠাচ্ছেন তাদের ক্লাবের প্রতিনিধি হিসাবে। তিনি বলেন “ওকে দরকার, তাই সুযোগ দিচ্ছি”।
কিন্তু সৌরভকে সুযোগ দিয়ে মমতা ব্যানার্জীর বিরাগভাজন হচ্ছেন না তো তিনি?তার উত্তরে তিনি বলেন যে রাজনীতির সঙ্গে তিনি বা মমতা দেবী কেউই খেলাধুলা কে গুলিয়ে ফেলেন না।
ক্রিকেটের প্রশাসক পদের দিকে যে সৌরভের লক্ষ্য স্থির তা বোঝাই যাচ্ছে।

Tuesday, July 21, 2009

'আমরা-ওরা' নয়, সকলকে নিয়ে কাজ করব-বললেন মমতা...




২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের পূর্বেই আগাম প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজ্যের বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। আজ শহীদদের স্মরণ উপলক্ষ্যে ব্রিগেডের সমাবেশে তিনি বলেন যে গ্রামীণ এলাকায় ঘরে ঘরে পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সবই পাবে সাধারণ মানুষ।
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কেউ কোন অন্যায় করবেননা।কথায় কথায় রাস্তা অবরোধ করবেননা।দরকার হলে নিয়ম মেনে আন্দোলন করবেন।” তার কথা শেষ হতে না হতেই হাত তুলে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান উপস্থিত সমর্থকরা।
উল্লেক্ষ্য হাওড়া স্টেশন থেকে লঞ্চ ঘাট সর্বত্রই আজ তিল ধারনের জায়গাটুকুও ছিলনা।সমাবেশের জেরে কার্যত ফাঁকা ছিল মহাকরণ। কয়েকটি ইংরাজী মাধ্যমে ছুটিও ঘোষনা করে দেওয়া হয়।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী, নচিকেতার মতো বিদ্বজনেরা। সন্মান জানানো হ্য় নন্দীগ্রামের বিধায়ক ফিরোজা বিবিকে।
মঞ্চ থেকে তার বার্তা, “আমরা-ওরা নয়, সকলকে নিয়েই কাজ করব।”

চন্দ্র অভিযান নিয়ে সংশয় এখনও কাটেনি...


১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিনদের চাঁদে হাঁটার অভাবনীয় সেই দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় দেখার পর স্বপ্নের দেশে চলে গিয়েছিল মানুষ৷ চোখে খানিকটা অবিশ্বাস কিন্তু আপন চোখকে প্রতারক ভাবে কি করে?

সারা দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ অবাক চোখে তারা দেখছিল, তাদেরই মতো মানুষ হাঁটছে সেখানে৷ মানব জাতির গৌরবের ফলক হয়ে পত্ পত্ করে উড়ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা৷
স্নায়ুযুদ্ধের সে যুগে মহাকাশ অভিযানে প্রতিপক্ষ সোভিয়েত ইউনিয়নকে টেক্কা দিয়ে চাঁদ জয় করার রাজনৈতিক গুরুত্বও ছিল অনেক। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে মানুষের সন্দেহ ততই বেড়েছে৷ কেলেংকারীর দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করা প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ার পর থেকেই অনেকেই সরকারি ভাষ্যকে সন্দেহের চোখে দেখছিল৷ চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণ নিয়েও সন্দেহ করতে শুরু করে অনেকে৷ টেলিভিশনের পর্দায় দেখা বহু দূরের চাঁদে মানুষের পদচারণাকেও কেউ কেউ মিথ্যা সরকারি ভাষ্য বলে মনে করতে থাকে৷ বছর যত গড়িয়েছে সন্দেহ তত পোক্ত হয়েছে তাদের। চাঁদে অবতরণের দৃশ্যচিত্রে বায়ুবিহীন চাঁদে পতাকা উড়তে দেখা, তৃতীয় ছায়াচিত্রসহ অনেক কিছুই মানুষকে ধাঁধাঁয় ফেলে দেয় মানবজাতির এই মাহেন্দ্রক্ষণকে । চাঁদ বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তির এ সময়টাতে এসে দেখা গেছে, সেদিনের সেই ঘটনাকে অবিশ্বাস করে এরকম মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে৷ রাজনীতি, সেই ঐতিহাসিক ধারণচিত্র হারিয়ে ফেলা ও এ অভিযান সংশ্লিষ্ট মানুষদের অসংলগ্ন কথাবার্তাই কী অবিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে?
মানুষের চাঁদে পা রাখার পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৭৪ এ বিল কেইসিং নামের এক ব্যক্তি নিজের পয়সা দিয়ে বই ছাপান একটি। তাতে তিনি দাবি করেন মানুষ কখনো চাঁদে যায়নি৷ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জোর হাওয়া পায় সে সময় থেকে৷ ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া ক্যাপ্রিকন ওয়ান নামের চলচ্চিত্রটি অনেকের বিশ্বাস টলিয়ে দেয়৷ চলচ্চিত্রটিতে মঙ্গলে যাওয়ার নামে মানুষকে প্রতারণা করার ঘটনা দেখানো হয়৷ সেখানে যে মহাকাশযানটি ব্যবহার করা হয় তা দেখতে অনেকটাই অ্যাপোলো ইলেভেনের মতোই৷ মূলত এই ছবিটিকে ভিত্তি করে সন্দেহবাদীর সংখ্যা বেড়ে যায়৷ আর ইন্টারেনেটের ব্যাপক সম্প্রসারণের কারণে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিস্তার ঘটে৷ তত্ত্বের গাঁথুনিও হতে থাকে শক্ত৷
১৯৯৫ সালে এক জনমত জরিপে দেখা যায়, শতকরা ছয়জন অ্যামেরিকানই মানুষের চাঁদে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন৷ ১৯৯৯ সালে টাইম-সিএনএন এর একটি জরিপও প্রায় একই ফলাফল দিয়েছিল৷ ২০০১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ফক্স টিভি এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে একটি অনুষ্ঠান প্রচারের পর সন্দেহ করার হার ২০ শতাংশ বেড়ে যায় বলে টেলিভিশনটি দাবি করে৷ ২০০৯ সালে বিজ্ঞান বিষয়ক একটি ব্রিটিশ সাময়িকীর জরিপ জানায়, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ চাঁদে যাওয়াকে গল্পই মনে করে৷ এবছরই সুইডেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার জরিপ থেকে জানা যায়, পত্রিকাটির ৪০ শতাংশের মতো পাঠক বিশ্বাস করে মানুষ চাঁদে গেছে৷
অনেকেই মনে করেন, সেসময় চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রযুক্তিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না৷ আর নিক্সন সরকারের এরকম সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করার পেছনে স্নায়ু যুদ্ধ, কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ডালপালা মেলা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এসবকেই কারণ বলে ধরে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসকারীরা৷